২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

পড়াশুনায় অধিক মনোযোগী হওয়ার উপায়

Eqra Coaching     ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৮     No comments


পড়াশুনায় অধিক মনোযোগী হওয়ার উপায়


পড়াশুনায় অধিক মনোযোগী হওয়ার উপায়সারাদিন বাচ্চাকে পড় পড় পড় বলছেন , তাও বাচ্চা পড়তে চাচ্ছে না, বরং আরও বেয়াড়া হয়ে উঠছে। আপনি বলুন তো বিরক্তিকর কাজ করার সময় আপনার কেমন লাগে? আর অপছন্দের কাজ কি আপনি স্বেচ্ছায় করেন? একিভাবে    বেশিরভাগ সময়ই বাচ্চারা মনে করে, লেখাপড়া অন্যান্য শ্রমসাধ্য কাজের মতোই একটি কষ্টকর কাজ। তারা বরং  খেলা ধুলা আর দুরুন্তপনায়ই  বেশি আনন্দ পেয়ে থাকে আর তাই পড়া ফেলে খেলতেই বেশি ভালোবাসে।  তাই আপনিও যদি শিক্ষা অর্জনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে লেকচার শুরু করেন, তবে তারা একে আরো বিরক্তিকর মনে করবে। বরং আপনার বাচ্চাকে খেয়াল করুন, কোন বিষয়ে তার আগ্রহ বেশি, কিভাবে তাকে হ্যান্ডেল করবেন, কৌশলে তাক পড়াশোনায় মনযোগী করবেন।  বিশেষজ্ঞরা নানা গবেষণা করেছেন বাচ্চাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে।  পরামর্শ দিয়েছেন অভিজ্ঞরা। এগুলো জেনে রাখুন।
শুরুটা হোক বাংলায়
বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। স্বাভাবিকভাবেই সন্তানকে শুদ্ধ বাংলাটা শেখানো প্রতিটি পরিবারের দায়িত্ব। জীবনের প্রয়োজনে ইংরেজিটা শিখতে হবে সত্য, কিন্তু মাতৃভাষার প্রতি গুরুত্ব দেয়াটা জরুরি।


মাকে সহনশীল হতে হবে

বাচ্চার লেখাপড়ার শুরুর দিকে মাকে অবশ্যই সহনশীল হতে হবে। বাচ্চা পড়তে না চাইলে, কাঁদলে বা বিরক্ত করলে মাকে ধৈর্য অবলম্বন করতে হবে। দেখা যায় যে শিশুটি দিব্যি মনের আনন্দে আর স্বাভাবিক চঞ্চলতা নিয়েই ঘুরে বেড়াচ্ছে সারাদিন। অথচ পড়তে বসলে, সেই শিশুর মাথাতেই কোথা থেকে যেন ভর করে রাজ্যের দুষ্টুমি। কখনও ঘুমের ভান করে আবার কখনও বা টিভি দেখার বায়না ধরে আপনার লক্ষ্মী ছেলে কিংবা মেয়েটিই। শিশুর এই শিশুতোষ গোলমালে হুট করেই মেজাজ হারিয়ে ফেলা যাবে না কখনোই। অনেককেই দেখা যায় অহেতুক শাসনের পাশাপাশি গায়ে হাত পর্যন্ত তোলেন যার বাস্তবিক অর্থে কোনো ফলাফল নেই। পড়াশোনা শুরু করার এই প্রাথমিক ধাপটা আনন্দদায়ক করার দায়িত্ব অবশ্যই পিতামাতার।

পড়াশোনা চাপিয়ে দেয়া নয়বরং আনন্দময় করে তুলুন : শিশুরা আনন্দ চায়। পড়াশোনা যদি আনন্দময় হয়ে ওঠে তবে তা করতে আগ্রহী হবে আপনার সন্তান। এ কাজটি করার সময় আপনার আচরণই আসল ভূমিকা পালন করে। লেখা-পড়া মজাদারভাবে উপস্থাপন করুন। শিশুটি মজা করতে করতেই পড়ার কাজটি সারবে।

চাই উপযুক্ত পরিবেশ সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সেই অধিকাংশ শিশুর লেখাপড়ায় হাতেখড়িটা আরম্ভ হয়। শিশুর লেখাপড়া শেখার জন্য পরিবেশও অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনুকরণ-প্রিয় শিশুরা তাদের আশপাশের অনেক কিছু দেখে শিখতে থাকে। শিশুর শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে বাবা-মাকেই। অনেক সময় দেখা যায় আপনি তাকে পড়তে বলে নিজে টিভি দেখতে বসে যান, যা শিশুর পড়াশোনায় অনীহার সৃষ্টি করে। শিশুর বই পড়ার সময়টা শিশুর পাশে থেকে তাকে বোঝান যে পড়ালেখার এই সময়টাকে আপনিও গুরুত্বের সঙ্গেই নিচ্ছেন। সম্ভব হলে শিশুর জন্য আলাদা একটি পড়ার রুমের ব্যবস্থা করুন। আপনি ইচ্ছে করলে শিশু যে রুমে ঘুমায়, সেই রুমের কোনায় একটি পড়ার টেবিল দিয়ে দিন। টেবিলের গায়ে শিশুর প্রিয় কার্টুন চরিত্রগুলো ব্যবহার করুন।
কৌশলে পড়াশোনায় আগ্রহী করে তুলুন যে বয়সে শিশুর খেলাধুলা করার কথা ওই বয়সে পড়তে বসালে শিশুদের বিরক্ত হওয়াটাই স্বাভাবিক। কাজেই শিশুর আনুষ্ঠানিক পড়াশোনা শুরুর বেশ অনেকদিন আগে থেকেই তাকে একটু একটু করে পড়াশোনার বিভিন্ন বিষয়গুলোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। খেলার ছলে শিশুকে বিভিন্ন ছড়া শোনানোর মাধ্যমে তাকে বিষয়গুলোর প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে। শিশুর মাঝে যদি গল্প শোনার ঝোঁক থাকে তাহলে তাকে পাশে নিয়ে কোনো একটি বই থেকে শিশুকে মজার মজার গল্প পড়ে শোনান। এক্ষেত্রে গল্পগুলো যদি শিশুর ভালো লাগে তাহলে সে নিজেও গল্প পড়ার জন্য কীভাবে বানান করে পড়তে হয় তা শিখতে আগ্রহী হবে। এভাবে শিশুকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষাদানের আগে তৈরি করে নিতে হবে।
শিশুকে সৎ সঙ্গ ও সুস্থ পরিবেশ  দিনঃ কথায় আছে সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস আর অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ। তাই শিশুর মধ্যে বাল্যকাল থেকে ভালো অভ্যাসগুলো গড়ে তুলতে অবশ্যই সঙ্গী নির্বাচনে নির্ভুল হতে হবে। মা-বাবাকে এ ব্যাপারে সন্তানকে স্কুলে ভর্তির সময় থেকে সাবধান ও সচেতন করতে হবে। যেসব ছাত্র লেখাপড়ায় ভালো, নিয়মিত ক্লাস করে, মেধাবী হিসেবে পরিচিত, আচার-আচরণ ভালো, খেলাধুলা করে, লেখাপড়ার পাশাপাশি সাহিত্য-উন্নয়নমূলক চর্চা করে এমন ভালো ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে বাচ্চাকে মিশতে উদ্বুদ্ধ করবেন।
প্রতিদিন সন্তানের খোঁজখবর নিতে সপ্তাহে একবার করে হলেও স্কুলে গেলে আপনি বুঝবেন আপনার সন্তানের অবস্থা। আগামী প্রজন্ম বেড়ে উঠুক বাঙালি স্বপ্ন, আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে। সেই লক্ষ্যে ছোটবেলা থেকেই সুন্দর অভ্যাস গড়তে এবং সুশিক্ষা দিতে মা-বাবা, বাড়ির মুরুব্বী ও পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে মনোযোগী হতে হবে।
পুরস্কার : পড়ার জন্য ছোটদের পুরস্কৃত করুন। ঠিকমতো পড়লে দুটো চকোলেট কি মন্দ উপহার? অথবা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পড়লে পাঁচ মিনিট খেলার সুযোগ। আর এসবের লোভে ঝটপট পড়ার কাজটা সেরে নেবে বাচ্চারা।

সময় ঠিক করে নিন : প্রতিদিনের নির্দিষ্ট কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে নিন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতি রাতে হোমওয়ার্কের জন্য ৪৫ মিনিট যথেষ্ট সময়। শিশুকেও বলুন যে তার পড়ার কাজটি অসীম সময় পর্যন্ত নয়। ঘড়িতে অ্যালার্ম দিয়ে বলুন, এটা বেজে ওঠার আগ পর্যন্ত তাদের পড়তে হবে, এর বেশি নয়।
প্রশংসা করুন : ছোট বা বড় যে কাজই করুক না কেন, শিশুকে উৎসাহ দিন। শিশুরা প্রশংসা বা উৎসাহ পেতে দারুণ ভালোবাসে। কাজেই পড়াশোনার কারণে যদি এই প্রশংসা পাওয়া যায়, তবে তা করতে পিছপা হয় না তারা।

নিজেও পড়ুন : শিশুদের পড়াতে গেলে দেখা যায়, তাদের পড়ে পড়ে পড়াতে হচ্ছে। তা না করে নিজে বরং অন্য কিছু পড়ুন । আপনার পড়া দেখে শিশুটিও তার পড়া পড়তে উৎসাহ বোধ করবে। আর তার নিজের পড়াটা নিজের করাই উত্তম।

0 comments :

পোষ্টের ধরন

আমাদের ফ্যান পেজ লাইক করুন

ইসলামিক রিসার্চ সমৃদ্ধ ফ্যান পেজ

বর্তমান পরিদর্শকের মোট সংখ্যা

Subscribe to Newsletter

We'll never share your Email address.
© 2018 Eqra Coaching. Eqra Designed by Eqra. Powered by Eqra.