Health Tips লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Health Tips লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২২ মার্চ, ২০২০

করোনা ভাইরাস কী এবং কীভাবে ছড়ায়?- What is Corona Virus?

Eqra Coaching     মার্চ ২২, ২০২০     No comments

https://eqra1998tp.blogspot.com/
করোনা ভাইরাস কী এবং কীভাবে ছড়ায়?
করোনা ভাইরাস এমন একটি সংক্রামক ভাইরাস যা এর আগে কখনও মানুষের মধ্যে ছড়ায়নি। ভাইরাসটির আরেক নাম ২০১৯-এনসিওভি। এটিও এক ধরনের করোনা ভাইরাস। এই ভাইরাসের অনেক রকম প্রজাতি আছে, কিন্তু এর মধ্যে ৭টি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ভাইরাসটি হয়তো মানুষের দেহকোষের ভেতরে ইতোমধ্যেই ‘মিউটেট করছে’ অর্থাৎ গঠন পরিবর্তন করে নতুন রূপ নিচ্ছে এবং সংখ্যাবৃদ্ধি করছে। যার ফলে এটি আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

এই ভাইরাস খুব দ্রুত একজন মানুষের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়াতে পারে বলে নিশ্চিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। এটি মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই এটি একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ায়। সাধারণ ফ্লু বা ঠান্ডা লাগার মতো করেই হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।

এক দশক আগে সার্স নামে যে ভাইরাসের সংক্রমণে পৃথিবীতে ৮০০ লোকের মৃত্যু হয়েছিল সেটিও এক ধরনের করোনা ভাইরাস ছিল। এতে আক্রান্ত হয়েছিল ৮ হাজারের বেশি মানুষ।

এছাড়া, ২০১২ সালে অন্য একটি ভাইরাসজনিত রোগ মিডল ইস্টার্ন রেস্পিরেটরি সিনড্রোম বা মার্স- এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ৮৫৮ জনের।

আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে কী লক্ষণ দেখা যায়?
করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রধান লক্ষণ হলো শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, জ্বর এবং কাশি। কিন্তু এর পরিণামে অরগ্যান ফেইলিওর বা দেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া, নিউমোনিয়া এবং মৃত্যু ঘটতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশ করার পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে প্রায় পাঁচ দিন সময় লাগে। প্রথম লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। তার পর দেখা দেয় শুকনো কাশি। এর এক সপ্তাহের মধ্যে দেখা দেয় শ্বাসকষ্ট।

এই ভাইরাস কতটা বিপজ্জনক সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের দুই শতাংশ মারা গেছেন এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া এমন মৃত্যুও হয়ে থাকতে পারে যা চিহ্নিত করা যায়নি, জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাই এ ভাইরাস ঠিক কতটা ভয়ংকর তা এখনও স্পষ্ট নয়।

যেভাবে ছড়িয়েছে ভাইরাসটি:
মধ্য চীনের উহান শহর থেকে এই রোগের সূচনা। গত ৩১ ডিসেম্বর এই শহরে নিউমোনিয়ার মতো একটি রোগ ছড়াতে দেখে চীন কর্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সতর্ক করে। এরপর ১১ জানুয়ারি এতে প্রথমবারের মতো একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। বিশ্বব্যাপী আজ পর্যন্ত ৫ হাজারের বেশি মানুষ মৃত্যু বরণ করেছে করোনায়। 

ঠিক কীভাবে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়েছিল তা এখনও নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে পারেননি বিশেষজ্ঞরা।

তবে তারা বলছেন, কোনো প্রাণী এই ভাইরাসের উৎস ছিল। প্রাণী থেকেই প্রথমে ভাইরাসটি কোনো মানুষের দেহে ঢুকেছে এবং পরে মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়েছে।


এর চিকিৎসা কী?
যেহেতু ভাইরাসটি নতুন, তাই এখন পর্যন্ত এর কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন নেই এবং এমন কোনো চিকিৎসা নেই যা এ রোগ প্রতিরোধ করতে পারে।

এই ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পাবার উপায় কী?
একমাত্র উপায় হলো যারা ইতিমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন বা এই ভাইরাস বহন করছেন তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।

হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. গ্যাব্রিয়েল লিউং স্বাস্থ্য সম্পর্কিত এক নির্দেশনায় বলেছেন, হাত সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং বার বার হাত ধুতে হবে। হাত দিয়ে নাক বা মুখ ঘষা যাবে না, ঘরের বাইরে গেলে মুখোশ পরতে হবে। পাবলিক গেদারিং থেকে দূরে থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আপনি যদি অসুস্থ হয়ে থাকেন তাহলে মুখোশ পরুন, আর নিজে অসুস্থ না হলেও, অন্যের সংস্পর্শ এড়াতেও মুখোশ পরুন।

৩ এপ্রিল, ২০১৮

হোমিওপ্যাথিক ঔষধের ক্রিয়া-কলাপ

Eqra Coaching     এপ্রিল ০৩, ২০১৮     No comments
হোমিওপ্যাথিক ঔষধের ক্রিয়া-কলাপ


হোমিওপ্যাথিক ঔষধের ক্রিয়া-কলাপ
হোমিওপ্যাথি ওষুধ কীভাবে কাজ করে?
প্রখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞানী হোমিওপ্যাথির আবিষ্কারক ডা. সামুয়েল হানেমান (হ্যানিম্যান) বলেছেন, হোমিওপ্যাথি ওষুধ স্নায়ুর মাধ্যমে কাজ করে। ওষুধ যাতে বেশিসংখ্যক স্নায়ুকে স্পর্শ করে ভালোভাবে কাজ করতে পারে, এ জন্য ওষুধের একটা অণুবটিকাকে পানিতে দ্রবীভূত করে প্রয়োগ করতে হবে। জিহ্বা, মুখ ও পাকস্থলীর স্নায়ুগুলো সহজেই ওষুধের ক্রিয়া গ্রহণ করতে পারে। নাক ও শ্বাসযন্ত্র দ্বারা ঘ্রাণ এবং মুখ দিয়ে আঘ্রাণ নিলেও সংশ্লিষ্ট চামড়ার ওপরের স্নায়ুও এ কাজে সাহায্য করতে পারে, বিশেষত একই ওষুধ যদি মর্দনের সঙ্গে সঙ্গে অভ্যন্তরীণভাবে প্রয়োগ করা হয়। (তথ্য : ১. ডা. সামুয়েল হানেমান- অর্গ্যানন অব মেডিসিন, ষষ্ঠ সংস্করণ, বি, জৈন পাবলিশার্স, ভারত, ১৯৭০; অনুচ্ছেদ ২৪৮, ২৪৯ ও ২৭০)

জীবনীশক্তির কাজ
আমাদের জৈবদেহের সব কাজের ক্ষমতার উৎস হলো জীবনীশক্তি (ঠরঃধষ ঊহবৎমু)। জৈবদেহ জীবনীশক্তির ক্ষমতাবলে জীবনীবল (ঠরঃধষ ঋড়ৎপব) প্রয়োগ করে নির্দিষ্ট নিয়মকানুন  অনুসারে সুস্থ, অসুস্থ ও আরোগ্যের সময় যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে। (তথ্য : ২. ডা. সামুয়েল হানেমান- অর্গ্যানন অব মেডিসিন, ষষ্ঠ সংস্করণ, বি, জৈন পাবলিশার্স, ভারত, ১৯৭০; অনুচ্ছেদ ৯-১৬)

ওষুধের কাজ
ডা. হানেমান তার বিশ্বখ্যাত 'অর্গ্যানন অব মেডিসিন' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, হোমিওপ্যাথি ওষুধের কাজ দুই ধরনের ১. রোগ সৃষ্টি করা ও ২. রোগ আরোগ্য করা। তিনি তার নিজের ও পঞ্চাশ জন সহযোগীর সুস্থ দেহে প্রায় ১০০টি ওষুধ স্থূলমাত্রায় ও বারবার প্রয়োগ করে পরীক্ষণ করেন। তখন এসব ওষুধের লক্ষণ তাদের ওপর প্রকাশ পায়। লক্ষণগুলো সংগ্রহ করে হোমিওপ্যাথি ম্যাটিরিয়া মেডিকা ও রেপার্টরি পুস্তকগুলোয় লিখে রাখা হয়েছে, যাতে চিকিৎসার সময় ওষুধগুলো ব্যবহার করা যায়। (তথ্য: ৩. ডা. সামুয়েল হানেমান- অর্গ্যানন অব মেডিসিন, ষষ্ঠ সংস্করণ, বি, জৈন পাবলিশার্স, ভারত, ১৯৭০; অনুচ্ছেদ ১২০-১২৫)


রোগ সৃষ্টি করা
এসব পরীক্ষার সময় ওষুধ সেবনের ফলে ওষুধ মুখ গহ্বরের স্নায়ুকে স্পর্শ করে এর অনুভূতি মস্তিষ্কে পেঁৗছে দেয়। সেখান থেকে এর ক্রিয়ার অনুভূতি মন ও দেহে ওষুধগুলোর নির্দিষ্ট ক্রিয়াক্ষেত্রে পেঁৗছে যায় এবং শরীর ও মনে ওষুধের নিজ নিজ লক্ষণ প্রকাশ করে। এ ক্ষেত্রে সুস্থ দেহ জীবনীশক্তির কাজের ক্ষমতাবলে জীবনীবল প্রয়োগ করে জীবনীসূত্র মোতাবেক এ কাজ সম্পন্ন করে। (তথ্য: ৪. ডা. সামুয়েল হানেমান- অর্গ্যানন অব মেডিসিন, ষষ্ঠ সংস্করণ, বি, জৈন পাবলিশার্স, ভারত, ১৯৭০; অনুচ্ছেদ ৯-১৬)

তবে ওষুধের দ্বারা এসব কৃত্রিম রোগলক্ষণ (অর্থাৎ ওষুধের লক্ষণ) প্রকাশের ক্ষেত্রে দুটো শর্ত কাজ করে ১. জীবনীশক্তির রোগপ্রবণতা ও ২. মন ও দেহের নির্দিষ্ট ক্রিয়াস্থলে ওষুধের নিজ নিজ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ প্রকাশের ক্ষমতা। এমনকি একই ক্রিয়াস্থলে প্রতিটি ওষুধ আলাদা আলাদা লক্ষণ প্রকাশ করে। যে কোনো বাহ্যিক প্রতিক্রিয়ায় সাড়া দেয়া জীবনীশক্তির সহজাত প্রবৃত্তি, একে বলা হয় রোগপ্রবণতা (ঝঁংপবঢ়ঃরনরষরঃু)। প্রত্যেক ব্যক্তির ভেতরে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া গ্রহণ বা বর্জনের ক্ষমতার তারতম্য থাকে। তাই রোগপ্রবণতার পার্থক্যের কারণে সব পরীক্ষকের ওপর যে কোনো ওষুধের সব লক্ষণ প্রকাশ পায় না। এমনকি প্রকাশিত লক্ষণের গভীরতা ও স্থায়িত্বও সমান থাকে না। তবে ওষুধকে ক্রমান্বয়ে বর্ধিত মাত্রায় প্রয়োগ করতে থাকলে শর্তহীনভাবে সব পরীক্ষকের ভেতরে ওষুধের লক্ষণ প্রকাশ পাবেই। সুতরাং কোনো ওষুধ পরীক্ষণের সময়, বিভিন্ন পরীক্ষকের ওপর কম-বেশি যত লক্ষণই প্রকাশ পাক না কেন, তা সব মিলে ওই ওষুধের লক্ষণ বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ সুস্থ দেহে ওষুধ পরীক্ষণের মাধ্যমে ওষুধের কৃত্রিম রোগ সৃষ্টিকারী ক্ষমতা বা ওষুধের লক্ষণ প্রকাশের পরিচয় জানা যায়। কোনো ওষুধকে পুনরায় পরীক্ষণ (জব-চৎড়ারহম) করেও তা পুনঃ প্রমাণিত হয়েছে। ভিয়েনা প্রুভিং সোসাইটি হানেমানের পরীক্ষণ করা ৩০ শক্তির ওষুধগুলো পুনরায় পরীক্ষণ করেও হানেমানের পরীক্ষণের যথার্থতার পুনঃ প্রমাণ পায়। (তথ্য : ৫. ডা. সামুয়েল হানেমান- অর্গ্যানন অব মেডিসিন, ষষ্ঠ সংস্করণ, বি, জৈন পাবলিশার্স, ভারত, ১৯৭০; অনুচ্ছেদ ১২০-১২৫ ও ১৭০)


পরবর্তী সময়ে বহু বিজ্ঞানী হানেমানের পরীক্ষণ করা অনেক ওষুধ দ্বিত্ত-অন্ধ পদ্ধতিতে  পুনরায় পরীক্ষণ করে হানেমানের পরীক্ষণের বৈজ্ঞানিক ভিত্তির প্রমাণ পান। যেমন এ নিয়মে ওয়ালাস বেলেডোনা ৩০ শক্তি ও প্লাসিবো দিয়ে ৪৭ জন পরীক্ষকের ওপর সফল পরীক্ষা চালান। এতে বেলেডোনার কার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, রোগী চিকিৎসার সময় হানেমান রোগীর রোগলক্ষণের সদৃশ লক্ষণসম্পন্ন ওষুধ সূক্ষ্ম মাত্রায় প্রয়োগ করে রোগীকে আরোগ্যের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। ১৭৯০ সালে আবিষ্কৃত তার এ চিকিৎসা পদ্ধতির নাম হোমিওপ্যাথি (ঐড়সবড়ঢ়ধঃযু)। ওষুধের আরোগ্যকারী ক্রিয়ার ক্ষেত্রেও জীবনীশক্তি, জীবনীবল ও জীবনীসূত্রের আগে বর্ণিত নীতিমালা মোতাবেক স্নায়ুর মাধ্যমে ওষুধ কাজ করে। সদৃশ লক্ষণসম্পন্ন ও রোগশক্তি অপেক্ষা শক্তিশালী ওষুধটি রোগলক্ষণের ক্রিয়ার ক্ষেত্রেই নিজের ক্রিয়া প্রকাশ করে এর সদৃশ কৃত্রিম রোগলক্ষণ উৎপন্ন করে। তখন দুটো সদৃশ রোগ একে-অন্যকে দূর করতে পারে- এ প্রাকৃতিক আরোগ্যনীতি অনুসারে রোগলক্ষণ দূরীভূত হয়ে রোগী আরোগ্য লাভ করে। এর দ্বারা হানেমান আরো প্রমাণ করেন যে কোনো ওষুধ সুস্থ মানুষের ওপর যে রোগলক্ষণ সৃষ্টি করে, তা সদৃশ লক্ষণের রোগীকে আরোগ্য করতে পারে। অর্থাৎ ওষুধের রোগ সৃষ্টিকারী ক্ষমতার মধ্যেই এর রোগ আরোগ্যকারী ক্ষমতা নিহিত। (তথ্য : ৭. ডা. সামুয়েল হানেমান- অর্গ্যানন অব মেডিসিন, ষষ্ঠ সংস্করণ, বি, জৈন পাবলিশার্স, ভারত, ১৯৭০; অনুচ্ছেদ ৯-১৬, ৩০-৩৩, ২৪৬-২৫১ ও ২৮৪-২৮৫)

এইডস, রিউমটয়েড আর্থ্রাইটিস, স্নায়ুশূল, অ্যালার্জি ইত্যাদি রোগে হোমিওপ্যাথি ওষুধ ও প্লাসিবো দিয়ে দ্বিত্ত্ব-অন্ধ পদ্ধতিতে গবেষণা করা হয়। এতে শতকরা ৭৬-৮০ ভাগ ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথি ওষুধের সফলতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

অন্য এক গবেষণায়, ৪০ জন মাথাঘোরা ও বিবমিষার রোগীর ওপর গবেষক ক্লৌজেন, বার্গম্যান ও বার্টলি এক গবেষণা চালান। এ রোগীদের লক্ষণানুসারে এব্রাগ্রেসিয়া, ককুলাস, কোনিয়াম ও পেট্রোলিয়াম ওষুধ দেয়া হয়। আধুনিক নিউরো-অটোলজিক্যাল টেকনিক অনুসারে এ গবেষণায় প্রমাণিত হয়, ওষুধগুলোর ক্রিয়াস্থল ব্রেনস্টেম ও মেডুলা অবলংগেটা।

উপসংহার
অতএব, ডা. হানেমান ও তার পরবর্তী গবেষণায়ও প্রমাণিত হয়েছে যে হোমিওপ্যাথি ওষুধ স্নায়ুর মাধ্যমে কাজ করে। এ ক্ষেত্রে, জীবনীশক্তি জীবের সব ক্ষমতার উৎস এটা উপলব্ধি করে হোমিওপ্যাথিকে যতই চিকিৎসাক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবহার করা যাবে, ততই জনস্বাস্থ্যের কল্যাণ হবে।

পরামর্শদাতা
ডাঃ সেকেন্দার আলী
01717-910891
হ্যানিম্যান হোমিও ফার্মেসী
তিলকপুর নতুন বাজার, তিলকপুর।
ভাইস প্রিন্সিপ্যাল
নওগাঁ হোমিওপ্যাথিক মেডিকাল কলেজ এন্ড হাসপাতাল, নওগাঁ।

৩১ মার্চ, ২০১৮

কান্সারকে প্রতিরোধ করতে যে আটটি খাবারকে "না" বলা প্রয়োজন

Eqra Coaching     মার্চ ৩১, ২০১৮     No comments
কান্সারকে প্রতিরোধ করতে যে আটটি খাবারকে "না" বলা প্রয়োজন

Avoid these Eight Food to Protect Cancer


কান্সারকে প্রতিরোধ করতে যে আটটি খাবারকে "না" বলা প্রয়োজনআট ধরনের খাবার থেকে যে ক্যান্সার হতে পারে তা প্রমাণিত। আর টিউমার বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে সবসময় সাবধান করে আসছেন।

স্বাস্থ্যবিষয়ক এক ওয়েবসাইটের দেওয়া তথ্য মতে, ক্যান্সার হওয়ার কারণগুলোর মধ্যে জিনগত সমস্যা, জীবনযাপন, ধূমপান, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম, কিছু নির্দিষ্ট সংক্রমণ, বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদানের কারণে হওয়া বিভিন্ন পরিবেশগত সমস্যা ইত্যাদি অন্যতম।

গবেষণা বলছে, ভুলভাল খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাব- একজন ব্যক্তির ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম প্রধান দুটি কারণ। ভরসার কথা হল বিষয়টা আপনার নিয়ন্ত্রণে। ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে ধূমপান বর্জন করা ছাড়াও আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা উচিত। যেমন- স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা, পুষ্টিকর খাবার, বিশেষত উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাবার খাওয়া ইত্যাদি।

‘ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার রিসার্চ ফান্ড’য়ের মতে, আমেরিকাতে ২০ শতাংশ ক্যান্সার রোগীরই রোগাক্রান্ত হওয়ার কারণ শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, মেদ, অতিরিক্ত মদ্যপান ও অপুষ্টি। সবগুলো কারণই মোকাবেলা করা সম্ভব, তাই খাদ্যাভ্যাস থেকে বাদ দিতে কিছু খাবার।

প্রক্রিয়াজাত ও কৃত্রিম চিনি: শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত চিনি ক্যান্সার কোষের প্রিয় খাবারগুলো মধ্যে অন্যতম। অর্থাৎ এটি ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিতে সহায়ক। মেডিসিন বিভাগে নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্ত জার্মান চিকিৎসক ওটো ওয়ারবার্গ ১৯৩১ সালে প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন যে টিউমার ও ক্যান্সার কোষ বেড়ে উঠতে উচ্চ মাত্রায় ‘ফ্রুক্টোজ’যুক্ত চিনির উপর নির্ভরশীল। তাই প্রক্রিয়াজাত কিংবা কৃত্রিম চিনির পরিবর্তে মধু, গুড়, ম্যাপল সিরাপ ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন।

প্রক্রিয়াজাত মাংস: যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউনিভার্সিটি অফ হাওয়াই’য়ের করা এক গবেষণা অনুযায়ী, প্রক্রিয়াজাত মাংস অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় প্রায় ৬৭ শতাংশ। এতে থাকে উচ্চমাত্রায় রাসায়নিক পদার্থ ও খাদ্য সংরক্ষক। আরও থাকে নাইট্রেইট, যা এর স্বাদ বাড়ায়। তবে ‘কারসিনোজেন’ ধরনের বিষ হিসেবে এর পরিচিত আছে।
‘স্মোকড মিট’ বা কাঠের ধোঁয়ার প্রস্তুতকৃত মাংস খাওয়াও স্বাস্থ্যের জন্য সুবিধার নয়, কারণ এই ধরনের খাবার তৈরির সময় মাংসে ‘টার’ অর্থাৎ ধোঁয়া থেকে সৃষ্টি বিষাক্ত পদার্থ শোষণ করে নেয়।
তাই খেতে হবে চর্বিহীন মাংস অথবা মাংস ঘরেই রাঁধতে হবে।

চাষ করা মাছ: বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা মাছ যেমন- স্যামন, অত্যন্ত জনাকীর্ণ পরিবেশে বড় হয়। মাছ চাষের ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও পরজীবির আক্রমণ থেকে বাঁচতে ব্যবহার হয় বিভিন্ন জীবণুরোধকারী ওষুধ, কীটনাষক ও অন্যান্য ‘কারসিনোগেনিক’ রাসায়নিক উপাদান। প্রাকৃতিক মাছের তুলনায় চাষ করা মাছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণও কম থাকে।
তাই যতটা সম্ভব নদী বা সমুদ্রের মাছ খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

আচার ও ধোঁয়ার প্রস্তুতকৃত খাবার: এসব খাবারে সাধারণত খাদ্য সংরক্ষক উপাদান যেমন, ‘নাইট্রেইট’ থাকে। দীর্ঘদিন এসব খাবার খেলে ওই খাদ্য সংরক্ষক উপাদানগুলো শরীরে জমা হতে থাকে। ফলে একসময় এই বিষাক্ত উপাদানগুলো কোষের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এবং ক্রমেই ক্যান্সারের দিকে এগিয়ে যায়।

আবার ধোঁয়ার প্রস্তুতকৃত খাবার উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করা হলে এতে থাকা ‘নাইট্রেইট’ পরিণত হয় আরও বেশি ক্ষতিকর ‘নাইট্রাইটস’য়ে। তাই এ ধরনের খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।

হাইড্রোজেনেইটেড অয়েল বা ট্রান্স-ফ্যাট: মানুষের তৈরি এই উপাদান রাসায়নিক গঠন পরিবর্তন করে দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত করা হয়। আবার এর গন্ধ ঢাকতে ও স্বাদ বাড়াতে ব্যবহার করা হয় রাসায়নিক পদার্থ।

গবেষকরা প্রমাণ করেছেন যে, বাণিজ্যিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করা খাবারে থাকা ‘হাইড্রোজেনেইটেড’ ও আংশিক ‘হাইড্রোজেনেইটেড’ উদ্ভিজ্জ তেল স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় দ্বিগুণ। তাই এর পরিবর্তে ব্যবহার করতে হবে ‘এক্সট্রা-ভার্জিন অলিভ অয়েল’, ‘এক্সট্রা-ভার্জিন কোকোনাট অয়েল’ কিংবা ‘পাম অয়েল।

আলুর চিপস: হাইড্রোজেনেইটেড ভেজিটেবল অয়েল’য়ে ভেজে তৈরি করা হয় এই চিপস, সঙ্গে থাকে অতিরিক্ত লবণ।
‘নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন’য়ে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, প্রতিদিন মাত্র ১ আউন্স চিপস খেলেই বছরে গড়ে প্রায় দুই পাউন্ড ওজন বাড়তে পারে। পাশাপাশি এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ট্রান্স-ফ্যাটও থাকে, যা কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়। আর লবণে থাকা সোডিয়াম বাড়ায় রক্তচাপ। আলুর চিপসকে মচমচে বানানোর জন্য উচ্চ তাপমাত্রায় ভাজা হয়। এতে ‘অ্যাক্রিলামাইড’ নামক ‘কারসিনোজেন’ ধরনের বিষাক্ত উপাদান তৈরি হয়। যা সাধারণত সিগারেটে মেলে।
এজন্য দোকান থেকে চিপস কেনার পরিবর্তে ঘরেই চিপস বানিয়ে খাওয়া অভ্যাস করতে হবে।

মাইক্রোওয়েভ পপকর্ন: খাওয়া সহজ এবং তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর একটি স্ন্যাকস পপকর্ন। তবে, ঝামেলা হল এর প্যাকেটে। বেশিরভাগ মাইক্রোওয়েভ পপকর্নের প্যাকেটের গায়ে থাকে ‘পারফ্লুরোঅক্টানোইক’ অ্যাসিড নামক রাসায়নিক উপাদান। যা স্তন, বৃক্ক, মুত্রথলি, কোলোরেক্টাল, প্রোস্টেট, ফুসফুস, থাইরয়েড, লিউকেমিয়া এবং লিম্ফোমা ক্যান্সারের জন্য দায়ী।

পরিশোধিত সাদা আটা: আটা পরিশোধনের সময় এর প্রায় সকল পুষ্টিগুণই নষ্ট হয়ে যায়। পরে একে ক্লোরিন গ্যাসের সাহায্যে ব্লিচ করা হয় ক্রেতার চোখে আকর্ষণীয় করার জন্য। এই আটার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের মাত্রাও অনেক বেশি। অর্থাৎ শরীরে পুষ্টি সরবরাহ ছাড়াই ইনসুলিনের মাত্রা হুট করে বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই পরিশোধিত সাদা আটার পরিবর্তে গম, কাঠবাদাম বা বার্লির আটা খাওয়া ভালো।


পরামর্শ দিয়েছেন-
ডাঃ মোঃ সেকেন্দার আলী
ডি,এইচ,এম,এস(ঢাকা), ফার্মাসিস্ট(ঢাকা)
ভাইস প্রিন্সিপাল-
নওগাঁ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ এন্ড হাস্পাতাল, নওগাঁ।
স্বত্বাধাকারী-
https://eqra1998tp.blogspot.com/হ্যানিম্যান হোমিও ফার্মেসী
তিলকপুর বাজার, আক্কেল্পুর, জয়পুরহাট।
মোবাইলঃ ০১৭১৭ ৯১০৮৯১

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

গর্ভাবস্থায় মায়ের খাদ্য ও যত্ন

Eqra Coaching     ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৮     No comments
গর্ভাবস্থায় মায়ের খাদ্য ও যত্ন


গর্ভাবস্থায় মায়ের খাদ্য ও যত্ন
গর্ভে থাকা যে শিশুটি পৃথিবীর বুকে আসছে সে যেন সুস্থ-সবল হয় এটা সব মার চাওয়া। কারণ সুস্থ সন্তানের মুখের হাঁসি মায়ের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আর এ প্রাপ্তিকে পূর্ণতায় রুপ দিতে আগে নজর দিতে হবে মায়ের নিজের শরীরের প্রতি। তাই আসুন জেনে নেয়া যাক গর্ভাবস্থায় একজন নারীর কী কী পুষ্টির প্রয়োজন এবং তা ঠিক কি পরিমানে। ‘পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট’-এর চার্ট থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তুলে ধরা হল সঠিক খাবারের সঠিক পরিমাপ।

প্রোটিন

স্বভাবিকের তুলনায় গর্ভাবস্থায় প্রোটিনের চাহিদা বৃদ্ধি পায় প্রায় ১/৩ ভাগ। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় যেন অতিরিক্ত ১৪ গ্রাম প্রোটিন থাকে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিদিন একটি ডিম, এক বাটি ডাল বা শিমের দানা অথবা এক ঠোঙা বাদাম— গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে সক্ষম।

ক্যালসিয়াম

স্বাভাবিক অবস্থায় যতটুকু ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন, গর্ভাবস্থায় এর প্রয়োজন বেড়ে যায় প্রায় ২০০ মি.গ্রা. এর মতো। দুধ, দই, পনির, বাটা মাছ, রুই মাছ ইত্যাদিতে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ অনেক বেশি। তবে বেশিরভাগ শুঁটকি মাছ, বিশেষ করে চিংড়ি মাছের শুঁটকিতে ক্যালসিয়ামের দৈনিক চাহিদা মেটাতে সক্ষম।

আয়রন

মায়ের দুধে যেহেতু আয়রন থাকে না, তাই গর্ভে থাকাকালেই জন্মের ৬ মাসে প্রয়োজনীয় আয়রন শিশু নিজের শরীরে জমা রাখে। এ জন্য গর্ভাবস্থায় আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া এত দরকারি। আয়রনের সবচেয়ে ভালো উৎস ‘রেড মিট’, কচু, কাঁচা আম, পাকা তেঁতুল। এছাড়া শুঁটকি মাছ, ফুলকপিতেও আয়রনের চাহিদা পূরণ হয়।

ভিটামিন বি-১, বি-২ ও নায়াসিন

গর্ভাবস্থায় ভিটামিন বি-১ বা থায়ামিন, বি-২ বা রিবোফ্লাবিন ও বি-৩ বা নায়াসিনের চাহিদা বেড়ে যায়। এসময় পেট, কোমর, গলা-এসব জায়গার চামড়ার রং পরিবর্তন হয়, পেটের চামড়া স্ফিত হওয়ায় টান লাগে, তাই বি-ভিটামিন এই সময় চামড়ার দেখভালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ভিটামিন-সি

আয়রন শোষিত হওয়ার জন্য ভিটামিন-সি প্রয়োজন। এ জন্য ডাক্তার বা পুষ্টিবিদেরা আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরপরই লেবু, কমলা, বাতাবিলেবু বা আমলকী খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

ভিটামিন-ডি

মায়ের শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের পরিমাণকে নিয়ন্ত্রণ করে। সে কারণে গর্ভবতী অবস্থায় ডিম, দুধ, পনির, দই ও ছোট মাছ খাওয়া বেশি পরিমাণে খুবই দরকার।

ফলিক অ্যাসিড

ফলিক অ্যাসিড খুব বেশি পরিমাণ পাওয়া যায় ব্রোকলি, ডাল ও পালংশাকে। এ ছাড়া বাঁধাকপি, ফুলকপি, কমলা, মটরশুঁটি ও হোলগ্রেন রুটিতেই ফলিক অ্যাসিডের পরিমাণ ভালো।

মনে রাখা প্রয়োজন, গর্ভাবস্থায় প্রায় সব ধরনের পুষ্টি উপাদানের প্রয়োজনীয়তাই বেড়ে যায়। এ কারণে গর্ভাবস্থায় এমন খাবার বেছে নেওয়া জরুরি, যাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল পাওয়া যায়।

গর্ভবতী মায়ের খাবারের মেনু

গর্ভাবস্থায় নারীর সুস্থতা ও সঠিক পরিচর্যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মায়ের সুস্থতার উপরেই নির্ভর করে সন্তানের সঠিক বৃদ্ধি ও বিকাশ। প্রায় প্রত্যেক গর্ভবতী মা'কে গর্ভাবস্থায় ১০ কেজি পর্যন্ত ওজন বৃদ্ধি করতে হয় একটি ৩ কেজি ওজনের সুস্থ সন্তান জন্মদান করার জন্য।তবে লক্ষ রাখতে হবে প্রত্যেক মাসে যেন ১ কেজির বেশি ওজন বৃদ্ধি না পায়।

অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি পেলে শরীর আগের অবস্থায় ফেরত আনতে অনেক কষ্ট করতে হবে। সেই সাথে গর্ভাবস্থায় বা সন্তান জন্মদানের সময়েও অনেক জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় সন্তানের সুস্থতার জন্য গর্ভবতী মা কে উপযুক্ত খাবার খেতে হয়। তবে এ খাদ্য প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বা কম হলে, মোট কথা অসামঞ্জস্যপূর্ণ হলে তা অনেক বেশি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় গর্ভস্থ সন্তানের জন্য। আসুন জেনে নেই গর্ভাবস্থায় মায়েদের খাবারের তালিকা কেমন হওয়া উচিত।

সকালেঃ

গর্ভবতী নারীদের সকালে উঠতে কিছুটা বেগ পেতে হয় কারণ বেশিরভাগ মায়েদেরই রাতে ঠিক মত ঘুম হয়না। তবে অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকলে গর্ভের বাচ্চার উপরে এর প্রভাব পড়ে। আবার অনেক সময় সকালে উঠার পরে বমিভাব হয়, খেতে ইচ্ছা হয়না। সেক্ষেত্রে সকালেই ভারি খাবার না খেয়ে হালকা চা খাওয়া যেতে পারে। সাথে একটা বিস্কিট।

প্রাতরাশঃ

চা খাওয়ার বেশ খানিকটা পরে খেতে পারেন ২টি রুটি অথবা মাখন লাগিয়ে খেতে পারেন ২ স্লাইস পাউরুটি। সাথে থাকতে পারে সবজি তরকারি। এবং একটি ডিম। ডিম সিদ্ধ করে খেতে পারেন অথবা পোঁচ করেও খাওয়া যাবে। তবে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হলে পাউরুটি না খাওয়াটাই ভাল হবে। দশটা এগারটার দিকে এক গ্লাস দুধ খেতে পারেন। কখনো কখনো ফলমূলও খেতে পারেন।

দুপুরের খাবারঃ

দুপুরে ভাত খাবেন এক বাটি। তবে ভাত খেতে না চাইলে রুটি খেতে পারেন। সেক্ষেত্রে রুটি খাবেন ৪ টি। সাথে মাছ বা মাংস অবশ্যই খাবেন। পরিমানটা হবে পঞ্চাশ থেকে সত্তর গ্রাম। সেই সাথে খেতে হবে বিভিন্ন রকম তরকারি, ডাল, তাজা ফল ও সবজির সালাদ। খাবার পরে খেতে পারেন দই।

বিকালেঃ

বিকালে হালকা কিছু দিয়ে নাস্তা করতে পারেন ভারি খাবার না খেয়ে। একটু চা বা দুধ খেতে পারেন। সাথে হয়ত দুই তিনটি বিস্কিট। অথবা খেতে পারেন কোন মজাদার ফল। কোন দিন এক স্লাইস কেক বা বাসায় তৈরি হালকা পাতলা স্নাক্সও খেতে পারেন। তবে বেশি তেলের জিনিষ ও ভাজা পোড়া না খাওয়াই ভাল হবে।

রাতের খাবারঃ

রাতের খাবার হবে দুপুরের মতই। তবে শাক জাতীয় জিনিষ রাতে খাওয়া পরিহার করলে ভাল হবে। বিভিন্ন সবজির আইটেম থাকতে পারে বেশি করে।

রাতে শোয়ার আগেঃ

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস দুধ অবশ্যই খেতে ভুলবেন না। সারারাত যেহেতু আপনি অভুক্ত থাকবেন তখন এই দুধটুকুই কিন্তু রাতে আপনার গর্ভস্থ সন্তানকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগাতে সাহায্য করবে।

এছাড়াও পানি খেতে হবে প্রচুর। পানি খাবার জন্য কোন নিয়ম নেই। একটু পরপর গর্ভবতী নারী তার চাহিদা অনুযায়ী পানি খেতে পারবেন।

এই তালিকা যে কোন সাধারন গর্ভবতী নারী মেনে চলতে পারেন। গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি একটি প্রতিদিনের সাধারন খাদ্য তালিকা। তবে অনেকেরই অনেক খাদ্য উপাদানে সমস্যা থাকতে পারে। কোন কোন গর্ভবতী নারী ডাইবেটিকস, উচ্চ প্রেশার ইত্যাদি শারীরিক সমস্যায়ও ভুগতে পারেন। তাদের খাবারের তালিকা হতে হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন রকমের। ডাইবেটিকস এর শিকার হলে শর্করা জাতীয় ও মিষ্টি জাতীয় খাবার পরিত্যাগ করতে হবে, আবার প্রেশারের রুগিরা লবন কম খাবেন। তাই গর্ভাবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে ও তার দেয়া তালিকা অনুযায়ী খাবার গ্রহন করতে হবে। শুধুমাত্র একজন গর্ভবতী নারীই পারে তার গর্ভাবস্থায় প্রয়োজনীয় খাদ্য গ্রহন করে গর্ভের সন্তানের সুস্থতা নিশ্চিত করতে।

গর্ভাবস্থায় মায়ের জন্য কিছু উপদেশ

একজন মহিলা যখন প্রখম বারের জন্য গর্ভধারন করেন তার কাছে অনেক কিছুই অজানা থাকে, এই সামান্য কিছু অজানা তথ্যের জন্য অনেক ধরনের কুসংস্কার মায়ের উপর চাপিয়ে দেয় অনেকেই। এজন্য গর্ভধারনের পরপরই একজন স্ত্রীরোগ চিকিৎসকের স্মরনাপন্ন হওয়া উচিত। এতে যে শুধু মা সুস্থ্য থাকবে তা নয়, গর্ভের শিশুটির নিরাপত্তাও এর সাথে জড়িত। সাধারনভাবে এ সময়টাকে মা’কে অল্প কিছু নির্দেশ মেনে চলতে হয়, নিচে তেমন কিছু নির্দেশ লিপিবদ্ধ করার চেষ্টা করা হলো।

১. খাদ্যঃ

মাকে এ সময় পুষ্টিকর, সহজপাচ্য ও অধিক আমিষ বা প্রোটিনযুক্ত খাবার খেতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে খাদ্য তালিকায় শাক-সব্জি এমন পরিমানে যেনো রাখা হয় যাতে ভিটামিন এর অভাব না হয়। একজন ৫০ কেজি ওজনের মায়ের জন্য আদর্শ খাবারে নুন্যতম ২৫০০ কিলোক্যালরি শক্তির যোগান থাকতে হবে।

২. বিশ্রাম ও ঘুমঃ

একজন গর্ভবতী মাকে একটি সুস্থ্য সন্তান জন্ম দেবার জন্য কিছুটা বাড়তি বিশ্রাম ও ঘুমানোর প্রয়োজন রয়েছে। দিনে ২ ঘন্টা ঘুম সহ দৈনিক নুন্যতম ১০ ঘন্টা ঘুমানো মায়ের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।

৩. কোষ্ঠঃ

লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন মা এর যেনো কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দেখা না দেয়, এতে গর্ভের সন্তান্টির উপর চাপ পড়তে পারে, এজন্য নিয়মিত মলাশয় খালি করতে হবে। বেশী বেশী শাক-সবজি খেলে এ সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

৪. স্তনঃ

এসময় স্তন সামান্য বড় হতে পারে, স্তনের বোটায় ও কিছু পরিবর্তন আসে, স্তন সামান্য টনটন করাটাও স্বাভাবিক। এসব কারন মাথায় রেখে স্তনের বিশেষ যত্ন নিতে হবে।

৫. যৌন মিলনঃ

গর্ভের প্রথম তিন মাসে যৌন মিলন না করাই উত্তম। গর্ভের শেষ ৬ সপ্তাহ ও যৌন মিলন থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে এ নিয়ে কোনো সমস্যা দেখা দিলে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বিশেষ ভাবে মিলন করা যেতে পারে।

৬. ভ্রমনঃ

সম্ভব হলে গর্ভের প্রথম তিন মাস যে কোনো ধরনের লম্বা ভ্রমন এড়িয়ে চলা উচিত।

৭.টিকা :

গর্ভের শুরুতেই টিটেনাস এর টিকা নিয়ে নিতে হবে। এই টিকা নেয়ার কারনে সন্তানের কোনো ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই বরং না নিলে প্রসবের সময় ঝুকির সম্ভাবনা থেকে যায়।

৮.ধূমপান :

গর্ভাবস্থায় কোনো অবস্থাতেই মায়ের ধুমপান করা চলবেনা, এমন অভ্যাস থেকে থাকলে সন্তানের ভালোর জন্য ঐ মুহুর্তে তা ত্যাগ করতেই হবে। গর্ভবতী মায়ের সামনে অন্যকেউ ধুমপান করলে তাও শিশুটির ক্ষতির কারন হয়ে দাড়াতে পারে। যেসব মায়ের মদ্যপানের অভ্যাস আছে তাদের এসময়ে এ অভ্যাসটি থেকেও দূরে থাকতে হবে। গর্ভাবস্থায় নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন শিশুর স্থায়ী ক্ষতির কারন হতে পারে।

৯.গোসল ও পোশাকঃ

দৈনিক গোসল করার অভ্যাস করতে হবে। ঢিলে ঢালা আরাম দায়ক পোশাক পরিধান করার জন্য সব চিকিৎসকই মা’দের উপদেশ দিয়ে থাকেন।

১০.বিবিধ :

পায়ে পানি আসা, উচ্চ রক্তচাপ, প্রসাব কমে যাওয়া, পেটের উপর দিকে ব্যথা , মাথা ঘুরানো বা মাথা ব্যথা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই সাথে সাথে আপনার চিকিৎসক কে জানাবেন।



Adviced By
Dr. Sekendar Ali 
01717-910891
(Hahnimann Homeo Hall)
Tilakpur Natun Bazar, Tilakpur.
Vice Principal of Naogaon Homoeopathic Medical College & Hospital, Naogaon.

পোষ্টের ধরন

আমাদের ফ্যান পেজ লাইক করুন

ইসলামিক রিসার্চ সমৃদ্ধ ফ্যান পেজ

বর্তমান পরিদর্শকের মোট সংখ্যা

Subscribe to Newsletter

We'll never share your Email address.
© 2018 Eqra Coaching. Eqra Designed by Eqra. Powered by Eqra.