Bangla II লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Bangla II লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

৩০ মার্চ, ২০১৮

বাংলা ভাষায় বিভিন্ন শব্দের ব্যবহার

Eqra Coaching     মার্চ ৩০, ২০১৮     No comments
বাংলা ভাষায় বিভিন্ন শব্দের ব্যবহার


বাংলা ভাষায় বিভিন্ন শব্দের ব্যবহার
শব্দ
এক বা একাধিক ধ্বনি মিলে যখন মনের ভাব প্রকাশ করে, তখন তাকে শব্দ বলে। যেমন: ফুল, বই ইত্যাদি।

অর্থগত ভাবে শব্দসমূহকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায় । যেমন,

১. যৌগিক শব্দ,  ২. রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ, ৩. যোগরূঢ় শব্দ, ৪. নবসৃষ্ট বা পরিশব্দ বা পারিভাষিক শব্দ

১. যৌগিক শব্দ
যে সব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই, তাদের যৌগিক শব্দ বলে।

অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।

২. রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ
প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগে গঠিত যে সব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ আলাদা হয়, তাদেরকে রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।

৩. যোগরূঢ় শব্দ
সমাস নিষ্পন্ন যে সব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ আর ব্যবহারিক অর্থ আলাদা হয়, তাদেরকে যোগরূঢ় শব্দ বলে।

৪. নবসৃষ্ট বা পরিশব্দ বা পারিভাষিক শব্দ
বিভিন্ন বিদেশি শব্দের অনুকরণে ভাবানুবাদমূলক যেসব প্রতিশব্দ সৃষ্টি করা হয়েছে, সেগুলোকে নবসৃষ্ট বা পরিশব্দ বা পারিভাষিক শব্দ বলে। মূলত প্রচলিত বিদেশি শব্দেরই এরকম পারিভাষিক শব্দ তৈরি করা হয়েছে।

শব্দের গঠনমূলক শ্রেণীবিভাগ

গঠন অনুসারে শব্দ ২ প্রকার । যেমন,

১. মৌলিক শব্দ, ২. সাধিত শব্দ

১. মৌলিক শব্দ
যে সব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে আর কোন শব্দ পাওয়া যায় না, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। অর্থাৎ, যে সব শব্দকে ভাঙলে আর কোন অর্থসঙ্গতিপূর্ণ শব্দ পাওয়া যায় না, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন- গোলাপ, নাক, লাল, তিন, ইত্যাদি।

এই শব্দগুলোকে আর ভাঙা যায় না, বা বিশ্লেষণ করা যায় না। আর যদি ভেঙে নতুন শব্দ পাওয়াও যায়, তার সঙ্গে শব্দটির কোন অর্থসঙ্গতি থাকে না। যেমন, উদাহরণের গোলাপ শব্দটি ভাঙলে গোল শব্দটি পাওয়া যায়। কিন্তু গোলাপ শব্দটি গোল শব্দ থেকে গঠিত হয়নি। এই দুটি শব্দের মাঝে কোন অর্থসঙ্গতিও নেই। তেমনি নাক ভেঙে না বানানো গেলেও নাক না থেকে আসেনি। অর্থাৎ, এই শব্দগুলোই মৌলিক শব্দ। ‘গোলাপ’ শব্দটির সঙ্গে ‘ই’ প্রত্যয় যোগ করে আমরা ‘গোলাপী’ শব্দটি বানাতে পারি। তেমনি ‘নাক’-র সঙ্গে ‘ফুল’ শব্দটি যোগ করে আমরা ‘নাকফুল’ শব্দটি গঠন করতে পারি।

২. সাধিত শব্দ
যে সব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে অর্থসঙ্গতিপূর্ণ ভিন্ন একটি শব্দ পাওয়া যায়, তাদেরকে সাধিত শব্দ বলে। মূলত, মৌলিক শব্দ থেকেই বিভিন্ন ব্যাকরণসিদ্ধ প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ গঠিত হয়।

মৌলিক শব্দ সমাসবদ্ধ হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যুক্ত হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়। যেমন-

সমাসবদ্ধ হয়ে- চাঁদের মত মুখ = চাঁদমুখ
প্রত্যয় সাধিত- ডুব+উরি = ডুবুরি
উপসর্গযোগে- প্র+শাসন = প্রশাসন
শ্রেণীবিভাগ

উৎপত্তিগত দিক দিয়ে শব্দের ৫টি বিভাজন হলো- তৎসম, অর্ধ-তৎসম, তদ্ভব, দেশি আর বিদেশি শব্দ।

১. তৎসম শব্দ:
সংস্কৃত ভাষার যে সব শব্দ প্রাকৃত বা অপভ্রংশের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়নি, বরং সংস্কৃত ভাষা থেকে সরাসরি বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, সে সব শব্দকেই বলা হয় তৎসম শব্দ। উদাহরণ- চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, ভবন, ধর্ম, পাত্র, মনুষ্য,

অনেক তৎসম শব্দেরই অর্ধ-তৎসম ও তদ্ভব রূপও বাংলায় ব্যবহৃত হয়। যেমন, সূর্য˃ সুরুয, মনুষ্য˃ মানুষ।

শুধু তৎসম শব্দেই ষ, ণ ব্যবহৃত হয়।

২. অর্ধ-তৎসম শব্দ:
যে সব সংস্কৃত শব্দ কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত গৃহীত হয়েছে, সেগুলোকে বলা হয় অর্ধ-তৎসম। এগুলো সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকেই কিছুটা সহজ আকারে গৃহীত হয়েছে। সংস্কৃত থেকে প্রাকৃত বা অপভ্রংশ ভাষার মাধ্যমে বাংলায় আসেনি। যেমন, জ্যোৎস্না˂ জ্যোছনা, শ্রাদ্ধ˂ ছেরাদ্দ, গৃহিণী˂ গিন্নী, বৈষ্ণব˂ বোষ্টম, কুৎসিত˂ কুচ্ছিত।

৩. তদ্ভব শব্দ:
বাংলা ভাষা গঠনের সময় প্রাকৃত বা অপভ্রংশ থেকে যে সব শব্দ পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছিলো, সেগুলোকেই বলা হয় তদ্ভব শব্দ। অবশ্য, তদ্ভব শব্দের মূল অবশ্যই সংস্কৃত ভাষায় থাকতে হবে। অর্থাৎ, যে সব শব্দ সংস্কৃত থেকে পরিবর্তিত হয়ে প্রাকৃত বা অপভ্রংশে ব্যবহৃত হয়েছিলো, পরে আবার প্রাকৃত থেকে পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় গৃহীত হয়েছে, সেগুলোকেই বলা হয় তদ্ভব শব্দ। বাংলা ভাষার উৎপত্তির ইতিহাস থেকেই বোঝা যায়, মূলত এই শব্দগুলোই বাংলা ভাষা গঠন করেছে। আর তাই এই শব্দগুলোকে বলা হয় খাঁটি বাংলা শব্দ। যেমন, সংস্কৃত ‘হস্ত’ শব্দটি প্রাকৃততে ‘হত্থ’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। আর বাংলায় এসে সেটা আরো সহজ হতে গিয়ে হয়ে গেছে ‘হাত’। তেমনি, চর্মকার˂ চম্মআর˂ চামার,

৪.দেশি শব্দ:
বাংলা ভাষাভাষীদের ভূখণ্ডে অনেক আদিকাল থেকে যারা বাস করতো, সেইসব আদিবাসীদের ভাষার যে সব শব্দ বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, সে সব শব্দকে বলা হয় দেশি শব্দ। এই আদিবাসীদের মধ্যে আছে- কোল, মুণ্ডা, ভীম, ইত্যাদি। মেমন, কুড়ি (বিশ)- কোলভাষা, পেট (উদর)- তামিল ভাষা, চুলা (উনুন)- মুণ্ডারী ভাষা।

৫. বিদেশি শব্দ:
বিভিন্ন সময়ে বাংলা ভাষাভাষী মানুষেরা অন্য ভাষাভাষীর মানুষের সংস্পর্শে এসে তাদের ভাষা থেকে যে সব শব্দ গ্রহণ করেছে, বাংলা ভাষার শব্দ ভান্ডারে অন্য ভাষার শব্দ গৃহীত হয়েছে, সেগুলোকে বলা হয় বিদেশি শব্দ। যে কোনো ভাষার সমৃদ্ধির জন্য বিদেশি শব্দের আত্মীকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এদিক দিয়ে বাংলা ভাষা বেশ উদারও বটে।

আরবি শব্দ : আল্লাহ, ইসলাম, ঈমান, ওযু, কোরবানি, কুরআন, কিয়ামত, গোসল, জান্নাত, জাহান্নাম, হওবা, হসবি, যাকাত, হজ, হাদিস, হারাম, হালাল
আদালত, আলেম, ইনসান, ঈদ, উকিল, ওজর, এজলাস, এলেম, কানুন, কলম, কিতাব, কেচ্ছা, খারিজ, গায়েব, দোয়াত, নগদ, বাকি, মহকুমা, মুন্সেফ, মোক্তার, রায়

ফারসি শব্দ: খোদা, গুনাহ, দোযখ, নামায, পয়গম্বর, ফেরেশতা, বেহেশত, রোযা
কারখানা, চশমা, জবানবন্দি, তারিখ, তোশক, দফতর, দরবার, দোকান,দস্তখত, দৌলত, নালিশ, বাদশাহ, বান্দা, বেগম, মেথর, রসদ
আদমি, আমদানি, জানোয়ার, জিন্দা, নমুনা, বদমাস, রফতানি, হাঙ্গামা

ইংরেজি শব্দ: প্রায় অপরিবর্তিত উচ্চারণে- চেয়ার, টেবিল
পরিবর্তিত উচ্চারণে- আফিম (opium), ইস্কুল (school), বাক্স (box), হাসপাতাল (hospitai), বোতল (bottle)

পর্তুগিজ শব্দ : আনারস, আলপিন, আলমারি, গির্জা, গুদাম, চাবি, পাউরুটি, পাদ্রি, বালতি
ফরাসি শব্দ : কার্তুজ, কুপন , ডিপো, রেস্তোঁরা
ওলন্দাজ শব্দ : ইস্কাপন, টেক্কা, তুরুপ, রুইতন, হরতন (তাসের নাম)
গুজরাটি শব্দ : খদ্দর, হরতাল
পাঞ্জাবি শব্দ : চাহিদা, শিখ
তুর্কি শব্দ : চাকর, চাকু, তোপ, দারোগা
চিনা শব্দ : চা, চিনি, লুচি
মায়ানমার/ বর্মি শব্দ : ফুঙ্গি, লুঙ্গি
জাপানি শব্দ : রিক্সা, হারিকিরি

এছাড়াও আরেকটি বিশেষ ধরনের শব্দ আছে। দুইটি ভিন্ন ধরনের শব্দ সমাসবদ্ধ হয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে একত্রিত হলে ঐ নতুন শব্দটিকে বলা হয় মিশ্র শব্দ। এক্ষেত্রে যে দুইটি শব্দ মিলিত হলো, তাদের শ্রেণীবিভাগ চিনতে পারাটা খুব জরুরি। যেমন-
রাজা-বাদশা (তৎসম+ফারসি)
হাট-বাজার (বাংলা+ফারসি)
হেড-মৌলভী (ইংরেজি+ফারসি)
হেড-পন্ডিত (ইংরেজি+তৎসম)
খ্রিস্টাব্দ (ইংরেজি+তৎসম)
ডাক্তারখানা (ইংরেজি+ফারসি)
পকেট-মার (ইংরেজি+বাংলা)
চৌ-হদ্দি (ফারসি+আরবি)

২৯ মার্চ, ২০১৮

বাংলা ভাষায় দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার

Eqra Coaching     মার্চ ২৯, ২০১৮     No comments
বাংলা ভাষায় দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার


দ্বিরুক্ত শব্দ
দ্বিরুক্ত শব্দকে ভাঙলে পাওয়া যায় ‘দ্বি+উক্ত’। অর্থাৎ, যা দুইবার বলা হয়েছে।

বাংলা ভাষায় দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহারবাংলা ভাষায় অনেক শব্দ বা পদ দুইবার ব্যবহৃত হয়ে অন্য একটি বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে। কোন শব্দ বা পদ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হয়ে কোন বিশেষ অর্থ প্রকাশ করলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে। যেমন- ‘আমার জ্বর জ্বর লাগছে।’ এখানে ‘জ্বর জ্বর’ দ্বিরুক্ত শব্দটি ঠিক ‘জ্বর’ অর্থ প্রকাশ করছে না। জ্বরের ভাব প্রকাশ করছে।

দ্বিরুক্ত শব্দ ৩ প্রকার- শব্দের দ্বিরুক্তি, পদের দ্বিরুক্তি ও অনুকার দ্বিরুক্তি।

(ক) শব্দের দ্বিরুক্তি

১. একই শব্দ অবিকৃতভাবে দুইবার ব্যবহৃত হয়ে দ্বিরুক্ত শব্দ গঠন করতে পারে। যেমন- ভাল ভাল বই, ফোঁটা ফোঁটা জল, বড় বড় বাড়ি, ইত্যাদি।
২. সহচর শব্দযোগে দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হতে পারে। দুটি সম্পর্কিত শব্দকে সহচর শব্দ বলা যায়। যেমন, ‘কাপড়-চোপড়’ সহচর শব্দযোগে গঠিত দ্বিরুক্ত শব্দ। ‘কাপড়’ অর্থ গা ঢাকার জন্য যেসব পরা হয়। আর কাপড়ের সঙ্গে অনুষঙ্গ হিসেবে যেগুলো পরা হয় সেগুলোই ‘চোপড়’। অর্থাৎ, এই দুটি শব্দ পরস্পর সম্পর্কিত। তাই এই দুটি শব্দ সহচর শব্দ। এরকম- লালন-পালন, খোঁজ-খবর, ইত্যাদি।
৩. একই শব্দ দুইবার ব্যবহৃত হয়ে পরেরবার একটু পরিবর্তিত হয়ে দ্বিরুক্ত শব্দ হতে পারে। যেমন- মিট-মাট, ফিট-ফাট, বকা-ঝকা, তোড়-জোড়, গল্প-সল্প, রকম-সকম, ইত্যাদি।
৪. সমার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক্ত শব্দ হতে পারে। যেমন- ধন-দৌলত, বলা-কওয়া, টাকা-পয়সা, ইত্যাদি।
৫. বিপরীতার্থক শব্দযোগেও দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হতে পারে। যেমন- লেন-দেন, দেনা-পাওনা, ধনী-গরিব, আসা-যাওয়া, ইত্যাদি।

(খ) পদের দ্বিরুক্তি/ পদাত্মক দ্বিরুক্তি

পদ বা বিভক্তিযুক্ত শব্দ দুইবার ব্যবহৃত হয়ে কোন বিশেষ অর্থ প্রকাশ করলে তাকে পদের দ্বিরুক্তি বা পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলে।

পদাত্মক দ্বিরুক্তি নিম্নোক্তভাবে গঠিত হতে পারে-

১. একই পদ অবিকৃতভাবে পরপর দুইবার ব্যবহৃত হয়ে। যেমন- ঘরে ঘরে লেখাপড়া হচ্ছে। দেশে দেশে ধন্য ধন্য পড়ে গেলো। মনে মনে আমিও এ কথাই ভাবছিলাম।
২. দ্বিতীয় পদ কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে। তবে এক্ষেত্রেও পদ-বিভক্তি অপরিবর্তিত থাকে। অর্থাৎ, মূল শব্দ কিছুটা পরিবর্তিত হয়, কিন্তু বিভক্তি অপরিবর্তিত থাকে। যেমন- আমরা হাতে-নাতে চোরটাকে ধরেছি।
৩. সহচর, সমার্থক বা বিপরীতার্থক শব্দ একই বিভক্তি যুক্ত হয়ে পরপর ব্যবহৃত হয়ে দ্বিরুক্ত শব্দ গঠন করতে পারে। যেমন- আমার সমত্মান যেন থাকে দুধে-ভাতে। দেশে বিদেশে বইটি লিখেছেন সৈয়দ মুজতবা আলী, আর পথে-প্রবাসে লিখেছেন মুহম্মদ এনামুল হক।

পদাত্মক দ্বিরুক্তির প্রয়োগ

বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি

(উল্লেখ্য, বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি হলে সেগুলো বিশেষণ পদের মত কাজ/ আচরণ করে। অর্থাৎ, বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি হলে সেগুলো বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।)

১. আধিক্য বোঝাতে : রাশি রাশি ধন, ধামা ধামা ধান
২. সামান্য বোঝাতে : আমার জ্বর জ্বর লাগছে। কবি কবি ভাব।
৩. পরস্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে : তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ। ওরা বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলছে।
৪. ক্রিয়া বিশেষণ : ধীরে ধীরে যায়, ফিরে ফিরে চায়।
৫. অনুরূপ কিছু বোঝাতে : তার সঙ্গী সাথী কেউ নেই।
৬. আগ্রহ বোঝাতে : ও দাদা দাদা বলে ডাকছে।

বিশেষণ পদের দ্বিরুক্তি

১. আধিক্য বোঝাতে : ভাল ভাল আম। ছোট ছোট ডাল।
২. তীব্রতা বা সঠিকতা বোঝাতে : গরম গরম জিলাপী। নরম নরম হাত।
৩. সামান্যতা বোঝাতে : উড়ু উড়ু ভাব। কাল কাল চেহারা।

সর্বনাম পদের দ্বিরুক্তি

১. বহুবচন বা আধিক্য বোঝাতে : সে সে লোক কোথায় গেল? কে কে এল? কেউ কেউ বলে।

ক্রিয়াপদের/ ক্রিয়াবাচক পদের দ্বিরুক্তি

১. বিশেষণ রূপে : রোগীর তো যায় যায় অবস্থা। তোমার নেই নেই ভাব আর গেল না।
২. স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে : দেখতে দেখতে আকাশ কাল হয়ে এল।
৩. ক্রিয়া বিশেষণ : দেখে দেখে যাও। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কিভাবে?
৪. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে : ডেকে ডেকে হয়রান হয়ে গেছি।

অব্যয় পদের দ্বিরুক্তি

১. ভাবের গভীরতা বোঝাতে : সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি এত খারাপ!
২. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে : বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
৩. অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে : ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
৪. বিশেষণ বোঝাতে : পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির।
৫. ধ্বনিব্যঞ্জনা : ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

বিশিষ্টার্থক বাগধারায় দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ

সতর্কতা বোঝাতে : ছেলেটিকে চোখে চোখে রেখো।
ভাবের প্রগাঢ়তা বোঝাতে : ভুলগুলো তুই আনরে বাছা বাছা।
কালের বিসত্মার বোঝাতে : থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে।
আধিক্য বোঝাতে : লোকটা হাড়ে হাড়ে শয়তান।
: খাঁচার ফাঁকে ফাঁকে, পরশে মুখে মুখে, নীরবে চোখে চোখে চায়।

২৫ মার্চ, ২০১৮

বাংলা ২য় পত্র নৈর্ব্যত্তিক ১.৪

Eqra Coaching     মার্চ ২৫, ২০১৮     1 comment
বাংলা ২য় পত্র নৈর্ব্যত্তিক .
১ম অধ্যায় ১ম পরিচ্ছেদ (ভাষা)
মোট প্রশ্ন সংখ্যা ১৮২
৪র্থ এবং শেষ পর্ব (প্রশ্ন ১৫১-১৮২)


১ম পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন-
২য় পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন-
৩য় পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন-


বাংলা ২য় পত্র নৈর্ব্যত্তিক ১.৪
১৫১. ‘গুলি’ শব্দটি ভাষার কোন রীতিতে ব্যবহৃত হয়?
ক) কথ্য রীতি
খ) আঞ্চলিক রীতি
গ) আধুনিক রীতি
ঘ) সাধু রীতি
সঠিক উত্তর: (ঘ)
১৫২. ‘ওলন্দাজ’ শব্দটি কোনটি?

ক) হরতন
খ) রুইতন
গ) আলমারি
ঘ) ক ও খ
 
সঠিক উত্তর: (ঘ)
১৫৩. ভাষার কোন রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে?
ক) চলিত রীতি
খ) সাধুরীতি
গ) আঞ্চলিক রীতি
ঘ) সবকটি 
সঠিক উত্তর: (খ)
১৫৪. বাংলা ভাষায় আগত ফারসি শব্দগুলো প্রধানত কয় ভাগে বিভক্ত?
ক) দুই ভাগে
খ) তিন ভাগে
গ) চার ভাগে
ঘ) পাঁচ ভাগে 
সঠিক উত্তর: (খ)
১৫৫. ‘পোশাক’ কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
ক) ফারসি
খ) বাংলা
গ) সংস্কৃত
ঘ) উর্দু
 
সঠিক উত্তর: (ক)
১৫৬. কোন ভাষারীতির পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট বা অপরিবর্তনীয়?
ক) কথ্য রীতি
খ) লেখ্য রীতি
গ) সাধুরীতি
ঘ) চলিত রীতি
 
সঠিক উত্তর: (গ)
১৫৭. কোনটি পর্তুগিজ শব্দ?
ক) বালতি
খ) দারোগা
গ) চাহিদা
ঘ) নালিশ
 
সঠিক উত্তর: (ক)
১৫৮. নিম্নের কোনটি পর্তুগিজ শব্দ?
ক) হরতাল
খ) পাউরুটি
গ) তুরুপ
ঘ) রেস্তোরাঁ
 
সঠিক উত্তর: (খ)
১৫৯. ‘চৌ-হদ্দী’ মিশ্র শব্দটি কোন ধরনের?
ক) তৎসম
খ) তদ্ভব
গ) অর্ধ-তৎসম
ঘ) মিশ্র
 
সঠিক উত্তর: (ঘ)
১৬০. পরিবর্তিত উচ্চারণে ইংরেজি শব্দ কোনটি?
ক) হাসপাতাল
খ) নভেল
গ) ফুটবল
ঘ) স্কুল
 
সঠিক উত্তর: (ক)
১৬১. ভাষার কোন রীতি তৎসম শব্দবহুল?
ক) সাধুরতি
খ) চলিত রীতি
গ) কথ্যরীতি
ঘ) লেখ্যরীতি
 
সঠিক উত্তর: (ক)
১৬২. নির্দিষ্ট পরিবেশে মানুষের বস্তু ও ভাবের প্রতীক কোনটি?
ক) শব্দ
খ) বাক্য
গ) পদ
ঘ) অক্ষর
 
সঠিক উত্তর: (ক)
১৬৩. ‘বেমালুম’ শব্দে ‘মালুম’ শব্দটি কোন ভাষার শব্দ?
ক) হিন্দি
খ) ফারসি
গ) বাংলা
ঘ) আরবি
 
সঠিক উত্তর: (খ)
১৬৪. তৎসম শব্দের ‘তৎ’ কোনটি বোঝায়?
ক) সংস্কৃত
খ) বাংলা
গ) প্রাকৃত
ঘ) অসমীয়া
 
সঠিক উত্তর: (ক)
১৬৫. কোনটি মিশ্র শব্দ?
ক) বাদশা-বেগম
খ) হেড-মৌলভী
গ) চন্দ্র-সূর্য
ঘ) চাকর-বাকর
 
সঠিক উত্তর: (খ)
১৬৬. বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষাভাষীদের মধ্যে ভাবের আদান-প্রদানে কোনটি অন্তরায় হতে পারে?
ক) যদি প্রত্যেকে আমরা আঞ্চলিক ভাষা পছন্দ করি
খ) প্রত্যেকে আঞ্চলিক ভাষাকে সর্বজনীন স্বীকৃতি দিলে
গ) আঞ্চলিক ভাষার ওপর রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ হলে
ঘ) আঞ্চলিক ভাষাকে তুচ্ছজ্ঞান করলে
 
সঠিক উত্তর: (খ)
১৬৭. এক এক গোষ্ঠীর মধ্যে নিয়ম-শৃঙ্খলাজাত ধ্বনিপুঞ্জকে কী বলে?
ক) ধ্বনি
খ) শব্দ
গ) বর্ণ
ঘ) ভাষা
 
সঠিক উত্তর: (ঘ)
১৬৮. আজকালকার চিনিতে মিষ্টি কম - এখানে ‘চিনি’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
ক) জাপানি
খ) চিনা
গ) মায়ানমার
ঘ) ফারসি
 
সঠিক উত্তর: (খ)
১৬৯. ‘তারিখ’ কোন ভাষার শব্দ?
ক) ফারসি
খ) আরবি
গ) তুর্কি
ঘ) পর্তুগিজ
 
সঠিক উত্তর: (ক)
১৭০. বাংলা ভাষায় আগত ফারসি শব্দগুলো প্রধানত কয়ভাগে বিভক্ত?
ক) দুই ভাগে
খ) তিন ভাগে
গ) চার ভাগে
ঘ) পাঁচ ভাগে
 
সঠিক উত্তর: (খ)
১৭১. বিভক্তিহীন নাম শব্দকে কী বলে?
ক) প্রাতিপাদিক
খ) বিদেশি শব্দ
গ) দেশি শব্দ
ঘ) সাধিত শব্দ
 
সঠিক উত্তর: (ক)
১৭২. ভাষার কোন রূপ ব্যাকরণ অনুসরণ করে চলে?
ক) চলিত
খ) সাধু
গ) আঞ্চলিক
ঘ) প্রাকৃত
 
সঠিক উত্তর: (খ)
১৭৩. বাংলাদেশে তুর্কি আগমন ও মুসলিম শাসন পত্তনের সুযোগক্রমে কোন কোন ভাষার প্রচুর শব্দ বাংলা ভাষার নিজস্ব সম্পদে পরিণত হয়েছে?
ক) আরবি ও ফারসি
খ) তুর্কি ও হিন্দি
গ) তুর্কি ও ফারসি
ঘ) ফারসি ও হিন্দি
 
সঠিক উত্তর: (ক)
১৭৪. ভাষার চলিত রীতি অনুসৃতি কষ্টসাধ্য কেন?
ক) এ রীতি কৃত্রিমতাবর্জিত বলে
খ) এ রীতির লিখিত কোনো ব্যাকরণ নেই বলে
গ) এ রীতিতে তদ্ভব শব্দের প্রাধান্য থাকে বলে
ঘ) এ রীতি পরিবর্তনশীল বলে
 
সঠিক উত্তর: (খ)
১৭৫. ‘নমুনা’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
ক) আরবি
খ) পর্তুগিজ
গ) ফারসি
ঘ) ফরাসি
 
সঠিক উত্তর: (গ)
১৭৬. মিথ্যা - শব্দের সঠিক চলিত রূপ কী?
ক) মিছে
খ) মিত্তে
গ) মিথ্যে
ঘ) মিছা
 
সঠিক উত্তর: (গ)
১৭৭. ধ্বনি উৎপাদনের ক্ষেত্রে উচ্চারণের মূল উপকরণ কোনটি?
ক) মুখবিবর ও জিহ্বা
খ) কন্ঠ, ওষ্ঠ ও জিহ্বা
গ) দন্ত ও ওষ্ঠ
ঘ) মুঞবিবর, জিহ্বা ও ওষ্ঠ
 
সঠিক উত্তর: (খ)
১৭৮. ‘তৎসম’ অর্থ ‘তার সমান’ - এই ‘তার’ কিসের?
ক) বাংলার
খ) প্রাকৃতের
গ) সংস্কৃতের
ঘ) ইংরেজির
 
সঠিক উত্তর: (গ)
১৭৯. ‘বন্য’ শব্দের চলিত রূপ কোনটি?
ক) বুন
খ) বুনো
গ) বন
ঘ) বূন
 
সঠিক উত্তর: (খ)
১৮০. ‘গিন্নী’ কোন শ্রেণির শব্দ?
ক) খাঁটি বাংলা
খ) দেশি
গ) বিদেশি
ঘ) অর্ধ-তৎসম
 
সঠিক উত্তর: (ঘ)
১৮১. কোনটি পাঞ্জাবি শব্দ?
ক) চাহিদা/শিখ
খ) তোপ
গ) চাকর
ঘ) কোনোটিই নয়
 
সঠিক উত্তর: (ক)
১৮২. কোনটি তৎসম শব্দের উদাহরণ?
ক) কুচ্ছিত
খ) বেগম
গ) গিন্নী
ঘ) হস্ত/পত্র
 
সঠিক উত্তর: (ঘ)

পোষ্টের ধরন

আমাদের ফ্যান পেজ লাইক করুন

ইসলামিক রিসার্চ সমৃদ্ধ ফ্যান পেজ

বর্তমান পরিদর্শকের মোট সংখ্যা

Subscribe to Newsletter

We'll never share your Email address.
© 2018 Eqra Coaching. Eqra Designed by Eqra. Powered by Eqra.